
নিজস্ব প্রতিনিধি: যশোর জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনের খেলায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে সেমিফাইনালে উঠেছে মণিরামপুর উপজেলা একাদশ। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় যশোরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মণিরামপুর ১–০ গোলে পরাজিত করে বাঘারপাড়া উপজেলা একাদশকে। ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি করেন সুজিত সরকার। অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন তিনিই।
পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলই ছিল সমানে সমান। প্রথমার্ধে গোলের সুযোগ তৈরি না হলেও বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল মণিরামপুর। বাঘারপাড়ার রক্ষণভাগ ছিল সংগঠিত, তবে আক্রমণভাগে দেখা যায় ফিনিশিংয়ের ঘাটতি।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি বাড়ে। ৪৮ মিনিটে বাঘারপাড়ার আশরাফুলের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। এর মিনিটখানেক পর মণিরামপুরের সজীব কর একক প্রচেষ্টায় গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। পরে ৬৭ মিনিটে কংকর বিশ্বাসের শটও সামান্য বাইরে যায়। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে মণিরামপুরের বিদেশি খেলোয়াড় সামছি রেফারির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে হলুদ কার্ড দেখেন, তবে এতে দলের মনোবলে কোনো প্রভাব পড়েনি।
শেষ দিকে ম্যাচে আসে রোমাঞ্চ। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে সুযোগ পেয়ে বাঘারপাড়ার রক্ষণভাগ ভেদ করে জয়সূচক গোলটি করেন সুজিত সরকার। তার নিখুঁত ফিনিশিং নিশ্চিত করে মণিরামপুরের জয় ও সেমিফাইনালের টিকিট।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাঘারপাড়া ফাউল করেছে ২০ বার এবং মণিরামপুর ১৪ বার। কর্নার পেয়েছে যথাক্রমে ৪ ও ৬টি। বল দখলে মণিরামপুর এগিয়ে ছিল প্রায় ৫৫ শতাংশে। শেষ পর্যন্ত মণিরামপুরের ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা, আক্রমণাত্মক মানসিকতা ও ধৈর্যই এনে দেয় সেমিফাইনালের গৌরবময় জয়।
খেলার পর মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না খেলোয়াড়দের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই জয় মণিরামপুরবাসীর গর্বের বিষয়। আমাদের খেলোয়াড়রা শৃঙ্খলা, দলীয় চেতনা ও দৃঢ় মনোবল দিয়ে যে সাফল্য এনেছে, তা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা।”
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।